সুরা - ইখলাস এর ৪নং আয়াতের তাফসির

সুরা-ইখলাস
★بسم الله الرحمن الرحيم★

★বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ★
পরম করুনাময় মহান আল্লাহ তায়ালার নামে--------
৪) وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
ওয়া লাম ইয়া'কুল-লাহু কুফুওয়ান আহাদ!
_____________________________

কুফু শব্দটির অর্থ সমকক্ষ, যার সমান পদ রয়েছে।
যেমন বিয়েতে স্বামী স্ত্রী হচ্ছে একজন আরেকজনের কুফু, কারণ তারা সমান।
যুদ্ধ ক্ষেত্রে একই পদের যারা থাকে, তারা একে অন্যের কুফু।
আল্লাহ্‌ এখানে আমাদেরকে বলছেন যে তার সমকক্ষ আর কেউ নেই।
এই আয়াতটি ওই সব মূর্খদের জন্য উত্তর যারা বলে –

“আচ্ছা, আল্লাহকে কেউ জন্ম দেয় নি ঠিক আছে, মানলাম তিনি এখনও কাউকে জন্ম দেন নি।
কিন্তু তার মানে তো এই না যে ভবিষ্যতেও কেউ তাঁর সমান হতে পারবে না।”

এর একটা চমৎকার উত্তর আছে 
আরেকটি সুরায়ঃ

… কিভাবে তাঁর সন্তান হতে পারে যেখানে তাঁর কোনো সঙ্গীই নেই, যেখানে তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছুর ব্যপারে সব জানেন? 
[সূরা আনাম ৬ঃ১০১]

উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল কুফু শব্দটি আস-সামাদের মতো পুরো কু’রআনে মাত্র একবারই এসেছে। সূরা ইখলাসে এরকম দুটি শব্দ আমরা পাই যা পুরো কু’রআনে মাত্র একবার করে এসেছে, শুধুমাত্র সূরা ইখলাসে।
এই দুটি শব্দ আল্লাহ্‌র সম্পর্কে আমাদেরকে এমন দুটি ধারণা দেয় যার কোনো তুলনা হয় না।
কু’রআনে আর কোনো কিছুর বেলায় এই শব্দ দুটো ব্যবহার করা হয়নি।
আল্লাহ্‌ এই শব্দ দুটিকে তাঁকে ছাড়া আর কারও বেলায় ব্যবহার করার যোগ্য মনে করেননি।

আরবিতে এই শেষ আয়াতটির বাক্য গঠন অদ্ভুত। প্রচলিত আরবি ব্যাকরণ অনুসারে বাক্যটি হওয়ার কথা –
“ওয়া লাম ইয়া কুন আহাদুন কুফুওয়ান লাহু।”
কিন্তু আল্লাহ্‌ শেষের তিনটি শব্দকে ভিন্ন ভাবে ব্যবহার করেছেন।
তিনি লাহু অর্থাৎ 
“তাঁর সাথে” 
কে আগে নিয়ে এসেছেন।
আরবিতে এটা করা হয় যখন কোনো কিছুকে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়। যেমন 
“হামদুন লাহু”
অর্থ 
“প্রশংসা তাঁর”,
কিন্তু 
“লাহু ল-হামদ”
অর্থ
“প্রশংসা শুধুমাত্র তাঁরই।” 
একইভাবে
“লাহু কুফুওয়ান আহাদ” 
ব্যবহার করে এই আয়াতটিতে বিশেষ ভাবে বলা হয়েছে –

“শুধুমাত্র তাঁর সমকক্ষ আর কিছুই নেই।”
এখানে বিশেষ ভাবে বলা হয়েছে যে আল্লাহ্‌ ছাড়া আর সবকিছুর সমকক্ষ থাকতে পারে,
কিন্তু একমাত্র তাঁর বেলায়, শুধুই তাঁর বেলায় কোনো সমকক্ষ নেই এবং থাকতে পারে না! 
(আহাদুন!!!)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম