পাঁচ ওয়াক্ত নামায

পাঁচ ওয়াক্ত নামায

দৈনিক নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচবার নামায আদায় করা ফরজ।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ

فَإِذَا قَضَيْتُمُ ٱلصَّلَوٰةَ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ قِيَٰمًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ  فَإِذَا ٱطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ  إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتْ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ كِتَٰبًا مَّوْقُوتًا 

অতঃপর যখন তোমরা সলাত পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে তখন সলাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয় সলাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয।  

  (সূরা আলন-নিসা,আয়াতঃ ১০৩)

"পাঁচ ওয়াক্ত নামাযসমূহ"

★১। ফজর নামাযঃ
ফজর নামাযের সময়ঃ সুবহ সাদিক থেকে সূর্য উদয়ের পূর্ব পর্যন্ত।
ফজর নামাযের রাকাআত সংখ্যাঃ
ফজরের নামায মোট ৪ রাকাআত।
প্রথম ২দুই রাকা’আত সুন্নাতে মুআক্বাদা
ও শেষে ২ দুই রাকা’আত ফরজ।

১।  ফজরের পূর্বে দু’রাকা’আত সংক্ষিপ্তভাবে নামায আদায় করা সুন্নাত
এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ

ان حفصة ام المؤمنين, اخبرته ان رسول الله صلي الله عليه وسلم كان اذا سكت المؤذن من الاذان لصلاة الصبح, وبدا الصبح, ركع ركعتين خفيفتين قبل ان تقام الصلاة.

“উম্মুল মু’মিনীন হযরত হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মুয়াযযিন ফজরের আযান দিতো এবং সকাল হওয়া আরম্ভ হতো তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আযান এবং ইক্বামতের মধ্যে সংক্ষিপ্ত দু’রাকা’আত নামায আদায় করতেন।  

  (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ১৬৯, সহীহ মুসলিম, হাদিস নং- ৭২৩)

ফজরের দু’রাকাআত সুন্নাত নামাযকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব গুরুত্ব দিতেন এবং তা কখনো ত্যাগ করতেন না।

এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ لَمْ يَكُنْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى شَيْءٍ مِنْ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مِنْهُ تَعَاهُدًا عَلَى رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ

আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নফল সালাতকে ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাতের চেয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন না।  

   (সহীহ বুখারী,হাদিস নং- ১১৬৯)

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ رَكْعَتَانِ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَعُهُمَا سِرًّا وَلاَ عَلاَنِيَةً رَكْعَتَانِ قَبْلَ صَلاَةِ الصُّبْحِ،

আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’রাক‘আত সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন অবস্থাতেই ছাড়তেন না। তাহলো ফাজরের সালাতের পূর্বের দু’রাক‘আত।

     (সহীহ বুখারী,হাদিস নং- ৫৯২)

২।  ফজরের সুন্নাতে সুরা পাঠ করা
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে

عن ابي هريرة, ان رسول الله صلي الله عليه وسلم قرا في ركعتي الفجر: قُل يا ايها الكافرون, وقل هو الله احد.

“হরত আবু হুতাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’রাকা’আত নামাযে সুরা কাফিরুন ও সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করতেন।

 (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং- ৭২৬)

৩।  ফজরের নামাযের কিরা’আত দীর্ঘ করা সুন্নাত
ফজরের দু’রাকাআত ফরজ নামাযে কিরাআত ৬০ হতে ১০০ আয়াত পর্যন্ত লম্বা করা সুন্নাত।এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ 

عن سعيار قال:سمعت ابا برزة الاسلمي,يقول: كان رسول الله صلي الله عليه وسلم يؤخر العشاء الي ثلث الليل, ويكره النوم قبلها,والحديث بعدها, وكان يقرا في صلاة الفجر من المائة الي الستين’وكان ينصرف حين يعرف بعضنا وجه بعض.

“(রাবী সায়িয়ার হতে বর্ণিত) তিনি বলেন, আমি আবু বারঝা আল আসলমীকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামায ঘুমের পূর্বে রতের একতৃতীয়াংশে পড়তেন। অন্য হাদীসে আছে। তিনি ফজরের নামাযে ৬০ হতে ১০০ আয়াত পর্যন্ত পড়তেন এবং এমন সময় নামায শেষ করতেন যখন আমরা পরস্পরকে মুখ দেখে চিনতে পারতাম।    

  (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং- ৬৪৭) 

★২। যোহরের নামাযঃ
যোহর নামাযের সময়ঃ সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পর থেকে প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।

১। যোহরের রাকাআত সংখ্যা
যোহরে মোট ১০ রাকা’আত নামায। প্রথমে ৪ রাকা’আত সুন্নাতে মুয়াক্বাদা,তার পর ৪ রাকা’আত ফরয, তার পর ২ রাকা’আত সুন্নাতে মুয়াক্বাদা।

২।  যোহরের নামাযের সুন্নাত কিরা’আত

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের প্রথম দু’রাকা’আতে ৩০ আয়াত পড়তেন।  

   (সহীহ মুসলিম,ও মিশকাতুল মাসাবীহ,হাদিস নং ৮২৯) 

৩।  যোহরের নামাযের প্রথম রাকা’আতে দীর্ঘ ও দ্বিতীয় রাকা’আতে সংক্ষিপ্ত কিরা’আত পড়া সুন্নাত।
এ প্রসঙ্গে হাসীসে এসেছেঃ 

عن عبد الله بن ابي قتادة عن ابيه قال كان النبي صلي الله عليه وسلم يقرا في الركعتين الاوليين من صلاو الظهر بفاتحة الكتاب وسورتين يطول في الاولى ويقصر في الثانية ويسمع الاية احيانا.

“হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু কাতাদাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের নামাযের প্রথম দুই রাকা’আতের প্রথম রাকা’আতে কিরা’আত দীর্ঘ এবং দ্বিতীয় রাকা’আতে কিরা’আত সংক্ষিপ্ত পড়তেন এবং মাঝে মাঝে তার কিরা’আত শুনা যেত।  

  (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৭১৫)

৪।  যোহরের সুন্নাত আগে না পড়তে পারলে পরে পড়তে হবে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের পূর্বে চার রাকাআত সুন্নাত নামায আদায় করতে খুব পছন্দ করতেন।
এমন কি যদি কখনো (যোহরের পূর্বে) এ চার রাকা’আত আদায় করতে না পারতেন, তাহলে যোহরের পর তা আদায় করে নিতেন। এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ

عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا لَمْ يُصَلِّ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ صَلاَّهُنَّ بَعْدَهُ 

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের পূর্বে চার রাকআ’আত (সুন্নাত) আদায় না করতে পারলে যোহরের পর তা আদায় করতেন।

 (সুনানু আত-তিরমিযি, হাদিস নং- ৪২৬)

৫।  যোহরের পূর্বে ও পরে ৪ রাকা’আত নামায পড়া সুন্নাত

এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ

عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ صَلَّى قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا أَرْبَعًا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ ‏"

উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকআত এবং এর পর চার রাকআত সুন্নাত আদায় করবে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।

 (সুনানু আত-তিরমিযি,হাদিস নং- ৪২৭)

★৩। আসরের নামাযঃ 
আসর নামাযের সময়ঃ যোহর নামাজের শেষ সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
১।  আসরের রাকা’আত সংখ্যা
আসরে মোট ৮ রাকা’আত নামায। প্রথমে ৪ রাকা’আত সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা। তারপর ৪ রাকা’আত ফরজ।

(তবে সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা নামায হচ্ছে ঐচ্ছিক। অর্থাৎ পড়লে সাওয়াব হবে, আর না পড়লে গুনাহ নেই। তবে পড়া উত্তম।)

২।  আসরের নামাযের আগে ৪ রাকা’আত সুন্নাত নামায
আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর দয়া করবেন যে সালাতুল আসরের আগে চার রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করে। 
এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ حَسَنٌ ‏.‏

ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ তা’আলা সেই ব্যক্তির উপর রহম করুন যে ব্যক্তি আসরের পূর্বে চার রাকআত (সুন্নাত) আদায় করে।ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব।  

  (সুনানু আত-তিরমিযি,হাদিস নং- ৪৩০, সুনানু আবু দাউদ,হাদিস নং- ১২৭১)

★৪। মাগরিবের নামাযঃ
মাগরিব নামাযের সময়ঃ সূর্যাস্তের পর শুরু হয়ে পশ্চিমাকাশের লালিমা বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত।

১।  মাগরিবের নামাযে রাকা’আত সংখ্যা
মাগরিবে মোট ৫ রাকা’আত নামায। প্রথমে ৩ রাকা’আত ফরয, তারপর ২ রাকাআত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।

২।  সূর্যাস্তের সাথে সাথে মাগরিবের নামায আদায় করবে
এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ

عن سلمة’ قال: كنا نصلي مع النبي صلي الله عليه وسلم المغرب اذا توارات بالحجاب 

“হযরত সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সূর্য পর্দার আড়াল হওয়ার সাথে সাথে মাগরিবের নামায আদায় করাতাম। 

   (সহীহ বুখারী,হাদিস নং- ৫৬১)

৩।  মাগরিবে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ২ রাকা’আত

এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ 

عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ صَلَّى فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الْفَجْرِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ عَنْبَسَةَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَنْبَسَةَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ 

উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রাত-দিনের বার রাকআত (সুন্নাত) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হবেঃ যোহরের পূর্বে চার রাকআত, এরপর দু’রাকআত, মাগরিবের পর দু’রাকআত, এশার পর দু’রাকআত, ভোরের সালাত (নামায/নামাজ) ফজরের পূর্বে দু’রাকআত।ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ এই বিষয়ে আম্বাসা সূত্রে বর্ণিত উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর রিওয়ায়াতটি হাসান-সহীহ। আম্বাসা থেকে অন্য সনদে ও হাদীস বর্ণিত আছে।    

  (সুনানু আত-তিরমিযি,হাদিস নং- ৪১৫) 

★৫। এশার নামাযঃ
এশার নামাযের সময়ঃ পশ্চিমাকাশের লালিমা মিলিয়ে যাওয়ার পর থেকে সুবহ সাদিক পর্যন্ত।
১।  এশার নামাযে রাকা’আত সংখ্যা
এশার ওয়াক্তে মোট ৯ রাকা’আত নামায। প্রথমে ৪ রাকা’আত ফরজ, তারপর ২রাকা’আত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, তারপর ৩ রাকা’আত বিতর।

২।  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার পর সুন্নাত ও কিছু নফল পড়তেন।
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، فَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ بِإِسْنَادِهِ قَالَ ‏:‏ يُصَلِّي الْعِشَاءَ ثُمَّ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ، لَمْ يَذْكُرِ الأَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، وَسَاقَ الْحَدِيثَ قَالَ فِيهِ ‏:‏ فَيُصَلِّي ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ يُسَوِّي بَيْنَهُنَّ فِي الْقِرَاءَةِ وَالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، وَلاَ يَجْلِسُ فِي شَىْءٍ مِنْهُنَّ إِلاَّ فِي الثَّامِنَةِ، فَإِنَّهُ كَانَ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ وَلاَ يُسَلِّمُ، فَيُصَلِّي رَكْعَةً يُوتِرُ بِهَا، ثُمَّ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً يَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ حَتَّى يُوقِظَنَا، ثُمَّ سَاقَ مَعْنَاهُ ‏.‏

হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বাহয ইবন হাকীম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) উপরোক্ত হাদিসের সনদে হাদিস বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেনঃ  তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায শেষে বিছানায় গমন করতেন এবং উক্ত বর্ণনায় তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার রাকাত নামায আদায় সম্পর্কে কিছু উল্লেখ রুকূ ও সিজদার মধ্যে সমতা রক্ষা করতেন এবং এই নামাযের কেবলমাত্র শেষ রাকাতে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসতেন । অতঃপর দণ্ডায়মান হয়ে বিতিরের এক রাকাত আদায় করে এমন সশব্দে সালাম ফিরেতেন যে, আমরা জাগ্রত হয়ে যেতাম । অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণিত হয়েছে।      

(সুনানু আবু দাউদ,হাদিস নং- ১৩৪৭)

৩।  বিতর নামাযের হুকুম 
বিতর নামায সুন্নাতে মুয়াক্কাদা    (ফিক্বহুস সুন্নাহ ২/১৪৩,নাসাঈ হাদিস নং-১৬৭৬; মির’আত ২/২০৭) যা এশার ফরয নামাযের পর হতে ফজর পর্যন্ত সুন্নাত ও নফল নামায সমূহের শেষে আদায় করতে হয়।

(ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৪৪,সহীহ আত-তারগীব হাদিস নং-৫৯২-৯৩)

৪।  বিতরের নামাযের রাকা’আত সংখ্যা
এশা কিংবা তাহজ্জুদ নামাযের পর রাতের নামাযকে বেজোড় করার জন্য কিছু বেজোড় রাকা’আত নামাযের নাম বিতর নামায। বিতর শব্দের অর্থ বেজোড়।
বিভিন্ন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণীত যে, এ বিতর নামায এক, তিন,পাঁচ,সাত কিংবা নয় রাকাআত।     

 (সহীহ বুখারী,সহীহ মুসলিম,ও মিশকাত,হাদিস নং- ১১১-১১২)

তবে অধিকাংশ ইমাম তিন রাকাআত পড়তে উৎসাহিত করেছেন।

عن ابي ابوب, ان النبي صلي الله عليه وسلم قال: الوتر حق, فمن شاء او تر بسبع,ومن شاء اوتر بخمس, ومن شاء اوتر بثلاث,ومن شاء اوتر بواحدة:

“হযরত আবু আইউব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিতরে হচ্ছে হক্ক (আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বা ওয়াজিব), সুতরাং যার ইচ্ছা সে সাত রাকাআত দিয়ে বিতর আদায় করবে,যার ইচ্ছা সে পাঁচ রাকাআত দিয়ে বিতর আদায় করবে, যার ইচ্ছা সে তিন রাকাআত দিয়ে বিতর আদায় করবে,এবং যার ইচ্ছা সে এক রাকাত দিয়ে বিতর আদায় করবে।  

 (সুনানু আন-নাসাঈ, হাদীস নং ১৭১০; তাহাবী,ইবনে মাজাহ, বায়হাকী। হাকিম হাদিসটি সহীহ বলেছেন।)

৫।  বিতরের নামায না পড়লে সে রাসূলের দলভুক্ত নয়।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا ‏"

আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ বিতিরের নামায হক (সত্য)।
যে ব্যক্তি এটা আদায় করবে না, সে  আমাদের দলভুক্ত নয়। এই উক্তিটি তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার করেন।  

  (সুনানু আবু দাউদ,হাদিস নং- ১৪১৯)

নামাযের নিষিদ্ধ সময়

তিন সময়ে নামায পড়া এবং মৃতদের দাফন করা নিষেধ। এই তিনটি সময় হলোঃ 

১।   সূর্যোদয়ের সময়। 

২।  ‘ইসতেওয়া’র সময়।অর্থাৎ ঠিক দুপুরে সূর্য যখন মাথার ওপর থাকে।এটি এটি পশ্চিম আকাশে সূর্য হেলে পড়ার আগের হয়।তখন মাত্র কয়েক মিমিটের জন্য নামজ নিষিদ্ধ। 

৩।  সূর্য অস্ত যাওয়ার সময়।

নামাযের উপকারিতা
নামাযের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। এর আত্মিক, শারীরিক, সামাজিক ও পরকালিন উপকারিতা ও ফজিলত রয়েছে। আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্যের বাস্তবরূপ হচ্ছে নামায। আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য চরম ধ্যান ও নম্রতার সাথে নামাজ আদায় করলে মানুষের আত্মিক উন্নতি সাধিত হয় এবং সফলতা আসে। কুরআন মজিদে আল্লাহতা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ

قَدْ أَفْلَحَ ٱلْمُؤْمِنُونَٱلَّذِينَ هُمْ فِى صَلَاتِهِمْ خَٰشِعُونَ

অর্থঃ অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে,যারা নিজদের সালাতে বিনয়াবনত।  

  (সূরা আল-মুমিনুন,আয়াতঃ ১-২)    

নামাযের অন্যতম উপকার হলো, নামায মানুষকে যাবতীয় অপকর্ম ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে। এ সম্পর্কে আল্লাহতা’আলা কুরআনুল করীমে ইরশাদ করেছেনঃ

ٱتْلُ مَآ أُوحِىَ إِلَيْكَ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ  إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ تَنْهَىٰ عَنِ ٱلْفَحْشَآءِ وَٱلْمُنكَرِ  وَلَذِكْرُ ٱللَّهِ أَكْبَرُ  وَٱللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ

তোমার প্রতি যে কিতাব ওহী করা হয়েছে, তা থেকে তিলাওয়াত কর এবং সলাত কায়েম কর। নিশ্চয় সলাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন যা তোমরা কর।    

  (সূরা আনকাবুত,আয়াতঃ ৪৫)

নামাযের শারীরিক উপকারিতা হলোঃ প্রতি ওয়াক্ত নামাযের সময় অজু করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নামায আদায়কালে উঠ-বস এবং শরীরের নড়াচড়ার ফলে স্বাস্থ্যের উপকার হয়। মসজিদে হেঁটে গিয়ে নামায আদায় করার ফলে শরীর ভালো থাকে। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠে খুব ভোরে মৃদু বাতাসে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামায পড়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
নামায সামাজিক উন্নতি ঘটায়ঃ নামাজ মানুষকে নিয়মানুবর্তিতা ও কর্তব্যবোধ শেখায়। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায়ের মাধ্যমে যে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়, তার ফলে মানুষ সমাজের অনুকরণীয় ব্যক্তি হিসেবে গড়ে ওঠে।

নামাজের পারলৌকিক গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে আল্লাহর সাথে যে মহব্বত ও আনুগত্যের সম্পর্ক তৈরী হয়,তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং আখেরাতে জান্নাত লাভের পথ সুগম হয়। এ কারণেই নামাজকে ‘জান্নাতের চাবিকাঠি’ বলা হয়েছে। নামায মানুষকে গুণাহ থেকে বাঁচিয়ে তাকে সুন্দর করে তুলে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমআ হতে অন্য জুমআ এবং এক রমজান থেকে অপর রমজান সে সকল গুনাহ মোচনকারী, যে সকল গুনাহ মধ্যবর্তি সময়ে করা হই, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।   

(সূত্রঃ মিশকাত,পৃঃ৫৭)

 

সূত্রঃ  ১। বুক অব ইসলামিক নলেজ, ইকবাল কবীর মোহন।
 ২। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায, দারুস সালাম বাংলাদেশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম