মাযহাব কেন?

মাযহাব কেন?
 ---------------------------

মাযহাব পালনের কথা
এই জন্য বলা হয় যে,
যেহেতু কুরআন সুন্নাহ এর বিস্তারিত জ্ঞান সম্পর্কে বর্তমানে আলেম খুবই নগণ্য।
যারাও আছে তারাও অনেক কিছু বিষয়ে বিজ্ঞ নন যেসব বিষয়ে বিজ্ঞ হওয়া অতীব জরুরী।
যেমনঃ

কুরআনে কারীমের কোন আয়াতের হুকুম রহিত হয়ে গেছে?
কোন আয়াতের হুকুম বহাল আছে?

কোন আয়াত কোন প্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছে?

★কোন আয়াত(কুর’আন-হাদীস উভয়ই) কাদের উদ্দেশ্য করে নাজিল হয়েছে,

★ কোন আয়াতাংশের প্রকৃত অর্থ কি?

★ আরবী ব্যাকরণের
কোন নীতিতে পড়েছে এই বাক্যটি?
★ এই আয়াত বা হাদীসে কী কী অলংকারশাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে?

👉সেই সাথে হাদীস শাস্ত্রে নিম্নোক্ত বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা খুবই জরুরী।

★ হুজুর স. কর্তৃক ত্রিশ পারা কোরআনের ব্যাখ্যায় রেখে যাওয়া দশ লক্ষ হাদীসের কয়টি হাদীস তিনি জানে?

★ কোন হাদীসেরর হুকুম রহিত হয়ে গেছে হাদীসটি সহীহ হলেও এবং কেন?

কোন হাদীসের হুকুম বহাল আছে?

★ কোনটি সহীহ হাদীস কোনটি দুর্বল হাদীস?

★ কোন হাদীস কি কারণে দুর্বল?

★ কোনো হাদীস দুর্বল হলে সেটা কোন রাবীর কারণে দুর্বল হয়েছে?

★ হাদীসের চেইনে এই দুর্বল রাবীর আসার আগে হাদীসটি কি অবস্থায় ছিল?

★ কোন হাদীস কী কারণে শক্তিশালী?

হাদীসের বর্ণনাকারীদের জীবনী একদম নখদর্পনে থাকা আলেম বর্তমান যুগে একটাও নাই।
অথচ হাদীসের বর্ণনাকারী শক্তিশালী না হলে তার দ্বারা শরয়ী হুকুম প্রমাণিত হয়না।
শুধু তাই নয়, সিয়াহ-সিত্তার কিতাবের লেখকের মতন হাদীস গবেষকও উনাদের পর আর কেউ জন্মাননি।
এই সকল বিষয়ে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি পাওয়া যাওয়া দুস্কর।
একেতু অধিকাংশ মানুষই আলেম না।
আর মুষ্টিমেয় যারা আসলেই আলেম তারাও উল্লেখিত সকল বিষয় সম্পর্কে প্রাজ্ঞ নয়।
তাই যেখানে আলেমদেরই পক্ষে এত কিছু পুংখানুপুংখভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না সেখানে আমাদের মতন মূর্খ মানুষদের পক্ষে কুরআন সুন্নাহ থেকে সঠিক মাসআলা বের করা অসম্ভব। 

– ইবনে তাইমিয়্যা যাকে ওহাবী/সালাফী/আহলে হাদীসেরা সব থেকে বেশী অনুসরন করে থাকে,
তিনি বলেন,
“কেবল মাত্র হাদীস শ্রবণ, লিখন অথবা বর্ণনায় সীমাবদ্ধ ব্যক্তিদেরকেই “আহলে হাদীস” বলা হয় না বরং আমাদের নিকট “আহলে হাদীস” বলতে ঐ সমস্ত ব্যক্তিদেরকে বুঝায় যারা হাদীস সংরক্ষন, পর্যবেক্ষন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অর্থ অনুধাবন করার যোগ্যতা সম্পন্ন এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অর্থের অনুসারী হবে।”

[নাক্বদুল মানতিক, পৃ:১৮, কায়রো থেকে প্রকাশ ১৯৫১ইং] 

– হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ. ইমাম বাগাবী রহ. সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইজতিহাদের জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে। যার মধ্যে এ পাঁচটি হতে একটিও কম পাওয়া যাবে, তার জন্য তাক্বলীদ ছাড়া কোন পথ নেই। 

[কাঞ্জুল উসূল ইলা মা’রিফাতিল উসূল- ২৭০, উসূলে ফিক্বাহ লি আবি হুরায়রা- ২৩৬, আল মালাল ওয়ান নাহাল- ১/২০০ মিশরী ছাপা।] 

– হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. কে জিজ্ঞাসা করা হল,
যার এক লক্ষ হাদীস স্মরণ থাকে, সে কি ফক্বীহ বা মুজতাহিদ হতে পারেবে, তদুত্তরে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বললেন, না।
পুনারায় জিজ্ঞাসা করা হলো, যদি পাঁচ লক্ষ হাদীস স্মরণ থাকে, তদুত্তরে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বললেন, সে সময় তাকে ফক্বীহ হবে আশা করা যেতে পারে।

[এমদাদুল ফতোয়া ৪/৮৭] 

একটি উদাহরণঃ
এক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-

اقيموا الصلاة

তথা সালাত কায়েম কর।

আরেক আয়াতে বলেছেন-

إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ
يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ

তথা নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা এবং ফেরেস্তারা নবীজীর উপর সালাত পড়ে।

এই আয়াতের শেষাংশে এসেছে-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

তথা হে মুমিনরা তোমরাও তাঁর উপর সালাত পড় এবং তাঁকে সালাম জানাও।
{সূরা আহযাব-৫৬}

এই সকল স্থানে লক্ষ্য করুন-
“সালাত” শব্দটির দিকে।
তিনটি স্থানে সালাত এসেছে।
এই তিন স্থানের সালাত শব্দের ৪টি অর্থ।
প্রথম অংশে সালাত দ্বারা উদ্দেশ্য হল “নামায” অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা আমাদের নির্দেশ দিলেন যে, তোমরা নামায কায়েম কর।
{সূরা বাকারা-৪৩}

আর দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ও তার ফেরেস্তারা নবীজী সাঃ এর উপর সালাত পড়েন মানে হল-আল্লাহ তায়ালা নবীজী সাঃ এর উপর রহমত পাঠান, আর ফেরেস্তারা নবীজী সাঃ এর উপর সালাত পড়েন, মানে হল নবীজী সাঃ এর জন্য মাগফিরাতের দুআ করেন।

আর তৃতীয় আয়াতাংশে “সালাত” দ্বারা উদ্দেশ্য হল উম্মতরা যেন নবীজী সাঃ এর উপর দরূদ পাঠ করেন।

(كتاب الكليات ـ لأبى البقاء الكفومى)

একজন সাধারণ পাঠক বা সাধারণ আলেম এই পার্থক্যের কথা কিভাবে জানবে?
সেতো নামাযের স্থানে বলবে রহমাতের কথা, রহমতের স্থানে বলবে দরূদের কথা, দরূদের স্থানে বলবে নামাযের কথা।
এরকম করলে দ্বীন আর দ্বীন থাকবে না, হবে জগাখিচুরী।

এরকম অসংখ্য স্থান আছে, যার অর্থ উদ্ধার করা কঠিন।
তাই একজন বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ ব্যক্তির শরাপন্ন হয়ে তার গবেষনা অনুযায়ী উক্ত বিষয়ের সমাধান নেয়াটাই হল যৌক্তিক।
এই নির্দেশনাই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে দিয়েছেন-

{فَاسْأَلوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ}
[النحل:43]

তথা তোমরা না জানলে বিজ্ঞদের কাছে জিজ্ঞেস করে নাও।
{সূরা নাহল-৪৩}

বিজ্ঞ ফুক্বাহায়ে কিরাম কুরআন সুন্নাহ, ইজমায়ে উম্মাত, এবং যুক্তির নিরিখে সকল সমস্যার সমাধান বের করেছেন।
সেই সকল বিজ্ঞদের অনুসরণ করার নামই হল মাযহাব অনুসরণ।
সেই অনুসরণের নির্দেশ সরাসরি আল্লাহ তায়ালা দিলেন পবিত্র কুরআনে।

হে আল্লাহ আপনি সকলকে সঠিক পথ দেখান,
আমিন

কপি পোষ্ট :-

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম