সহীহ হাদীছের দৃষ্টিতে তাবীয ঝুলানো শিরক
🌺💫🌺💫🌺
👉রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাবীয ব্যবহার করা শিরক বলেছেন। তাবীয ও তাবীয জাতীয় সব কিছুকে একই শ্রেণীভূক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন-
👉উক্ববাহ ইবনু আমির (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাবীয ব্যবহার করবে আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দিবেন না। আর যে কড়ি ব্যবহার করবে আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না’।[আহমাদ, হাদীছ হাসান হা/১৭৪৪০।]
কোন কিছুর দ্বারা তাবীয বা কড়ি ঝুলানো একই ধরনের অপরাধ।
👉উক্ববাহ ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর খিদমতে একদল লোক উপস্থিত হ’ল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দলটির ৯ জনকে বায়‘আত করালেন এবং একজনকে বায়‘আত করালেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল!
আপনি ৯ জনকে বায়‘আত করালেন আর একজনকে ছেড়ে দিলেন।
রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘তার সাথে একটি তাবীয রয়েছে। তখন লোকটি হাত ভিতরে ঢুকিয়ে তাবীয ছিড়ে ফেললেন। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) তাকেও বায়‘আত করালেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি তাবীয ব্যবহার করল সে শিরক করল’।[আহমাদ হা/১৭৪৫৮, সনদ ছহীহ ।]
এ থেকে বুঝা যায়, তাবীয ব্যবহার করা জঘন্য অপরাধ। এরূপ ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বায়‘আত করানো থেকে বিরত থেকেছেন। সেটা যে প্রকারের তাবীয হোক না কেন। তাহ’লে অপরাধের পরিধি কত বেশী তা সহজেই অনুমেয়।
👉রুওয়াইফা ইবনু ছাবিত (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বললেন,
‘হে রুওয়ায়ফা! হয়ত তুমি আমার পরেও অনেক দিন বেঁচে থাকবে। সুতরাং তুমি লোকদেরকে এ কথা বলে দিও যে, যে ব্যক্তি দাড়িতে গিট দিল (জট পাকাল) অথবা তাবীয জাতীয় বেল্ট বা সূতা (ছেলে-মেয়ের বা প্রাণীর গলায়) পরাল কিংবা চতুষ্পদ জন্তুর গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইসতেঞ্জা করল, নিশ্চয়ই তার সাথে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর কোন সম্পর্ক নেই’।[আবুদাঊদ হা/৩৬; নাসাঈ হা/৫০৬৭; মিশকাত হা/৩৫১, সনদ ছহীহ।]
👉অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمُ وَالتِّوَلَة شِرْكٌ
‘নিশ্চয়ই ঝাড়-ফুঁক(অবৈধ বা শিরকি কালাম দিয়ে), তাবীয এবং ভালবাসা সৃষ্টি করার জন্য কোন কৌশল অবলম্বন করা শিরক’।
[আবুদাঊদ হা/৩৮৮৫; ইবনে মাজাহ হা/৩৫৩০; আহমাদ হা/৩৬১৫; মিশকাত হা/৪৫৫২, সনদ ছহীহ।]
এতে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, তাবীয ব্যবহার করা, বাচ্চাদের গলায় বা কোমরে কালো কিংবা সাদা সূতা বাঁধা শিরক।
👉ঈসা ইবনে হামযাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উকাইমের নিকট গেলাম। তাঁর শরীরে লাল ফোস্কা পড়ে আছে। আমি বললাম, আপনি তাবীয ব্যবহার করবেন না? উত্তরে তিনি বললেন, তা হ’তে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ تَعَلَّقَ شَيْئًا وُكِلَ إِلَيْهِ
‘যে ব্যক্তি কোন কিছু ঝুলায় তাকে তার প্রতি সোপর্দ করে দেয়া হয়’।
[তিরমিযী হা/২০৭২; আহামাদ হা/১৮৮০৩; মিশকাত হা/৪৫৫৬, সনদ হাসান।]
👉আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)-এর স্ত্রী যয়নব হ’তে বর্ণিত একদা (আমার স্বামী) আব্দুল্লাহ আমার গলায় একখানা তাগা দেখে জিজ্ঞেস করলেন,
(তোমার গলায়) এটা কী? বললাম, এটা একটি তাগা, এতে আমার জন্য মন্ত্র পড়া হয়েছে। যয়নব বললেন, তা শুনে তিনি তাগাটি ধরে ছিঁড়ে ফেললেন, অতঃপর বললেন, তোমরা আব্দুল্লাহর পরিবারবর্গ। তোমরা শিরকের মুখাপেক্ষী নও। আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ঝাড়ফুঁক, তাবীয ও জাদুটোনা শিরকী কাজ’।
[আবুদাঊদ হা/৩৮৮৫; আহমাদ হা/৩৬১৫; সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৪৫৫২।]