জান্নাতী নারীদের পরিচয়:
জান্নাতে দুই ধরণের রমণী থাকবে
১। মানব নারিঃ এই পৃথিবীর নারী যারা জান্নাতে যাবে তাদেরকে জান্নাতের সুন্দর্য্য অনুযায়ী নতুন করে সৃষ্টি করা হবে। আল্লাহ জাল্লা জালালাহু বলেন “ আমরা তাদেরকে নতুন ভাবে সৃষ্টি করবো এবং আমরা তাদেরকে বানালাম কুমারী, তাদের স্বামীদের নিকট প্রেমময়(আবেদনয়ী) ও সমবয়সী।(কোরআন ৫৬ঃ ৩৫-৩৭)।
আল্লাহ জাল্লা জালালাহু বুড়ো(বৃদ্ধ) নারীদের যুবতী বানিয়ে দিবেন এবং অকুমারীদের কুমারী বানিয়ে দিবেন। এক্ষেত্রে তাদের পূর্ববর্তী পৃথিবীর রূপ লাবন্য বিবেচনা করা হবেনা। আল্লাহ জাল্লা জালালাহু তাদেরকে জান্নাতের মত করে সুন্দরী ও নয়নাভিরাম বানাবেন।(সাফয়াতুল তাফসীর ৩/৩০৯,দারুল কোরআন, বৈরুত)
জান্নাতের ২য় প্রকারের নারী হলো
ঐ সকল স্বর্গীয়, নজরকারা,অদেখা অপরূপা সুন্দরী কুমারী নারী যাদেরকে বিশেষভাবে জান্নাতী পুরুষদের জন্য তৈরী করা হয়েছে, আর তারা হল হুর-আল আইন। একজন হুর হলো যুবতী, সুন্দরী ও আকর্ষনীয় শরীরের অধিকারী কুমারী নারী যাদের আছে ঘন কালো চোখ। অন্য ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে হুরদের চোখ সাদা ও কলোর মাঝে একটি তীক্ষ্ণ বর্ণের হবে যা অসম্ভব রকমের সুন্দর হবে। অথবা এর অর্থ এও হতে পারে যে, তাদের সুন্দর্য এমন হবে যা সবাইকে অবাক ও চমতকৃত করবে। আর আইন শব্দের অর্থ হলো বড় ও আকর্ষনীয় চোখ বিশিষ্ট নারী যা অপরুপ সুন্দর্য্যের প্রতীক।(হাদিয়ুল আরঅয়া)
হুর কি দিয়ে তৈরী?
ইবনে আব্বাস, আনাস, আবু সালামাহ(রধিঃ) হতে বর্ণিত যে, হুর সাফ্রোন হতে তৈরী। সাফ্রোন কমলা রংয়ের পণ্য যা ফুল হতে বের করা হয়েছে এবং ইহা খাবারের রং ও ঘ্রান দেওয়ার জন্য ব্যাবহুত হয়। যখন মাটি দিয়ে তৈরী বর্তমান মানুষ সবচেয়ে সুন্দর গঠনের অধিকারী সেখানে আপনি অনুমান করতে পারেন সাফ্রোন দিয়ে তৈরী নারীরা কত সুন্দর হবে!(হাদিয়ুল আরঅয়া)
দুজন স্ত্রীর পরস্পরের মধ্যে কোন প্রকার হিংসা বিদ্বেষ থাকবেনা
কোরআনের আয়াতে বর্ণিত “ বয়সে সমান(৫৬:৩৫-৩৭)”
এর অন্য একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, জান্নাতের রমণীরা বয়সে সমান হবে যা তাদেরকে একত্রে সংঘবদ্ধ রাখবে এবং ইমানদারদের জীবনকে সুখের সাগরে দুবিয়ে দিবে।(রুহুল মায়ানী ১৩/২২০)।
পৃথিবীর স্ত্রীরা একে অপরে ঝগড়া বিবাধে লিপ্ত হয়ে স্বামীর জীবনকে অস্থির করে তুলে। যাহোক জান্নাতী মানুষের মধ্যে কোন প্রকার হিংসা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা থাকবেনা। সহিহ বুখারী ও মুসলিমের একটি হাদিসে আছে যে, জান্নাতী লোকদের হৃদয় একটি হবে এবং তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য বা ঝগড়া বিবাধ থাকবেনা। আল্লাহ যাল্লা যালালাহু বলেন “ এবং আমরা তাদের অন্তর থেকে সকল প্রকার ঘৃণা উঠিয়ে নিব(০৭:৪৩)”।
তাই সকল জান্নতী লোকের স্ত্রীরা একত্রে থাকবে এবং কখনো একে অন্যকে হিংসা করবে না৷