★ ইশরাক ও চাশতের সময় ও তার ফজীলত★
____________________________________
ইশরাক এবং চাশত নামাজ:- এশরাক ও চাশত দুটি একই নামাজ। সূর্য ওঠার পর একটু দেরি করে পড়লে সেটাকে চাশতের নামাজ বলবেন এবং একটু আগে পড়লে সেটাকে ইশরাকের নামাজ বলবেন। অর্থাৎ সূর্য উদয়ের পরপরই যদি আপনি নফল নামাজ পড়ে থাকেন, তাহলে সেটা এশরাকের নামাজ এবং সূর্য উদয়ের কিছুটা সময় পরে যদি আপনি আদায় করেন, যখন নাশতার সময় হয়ে যায় অথবা সূর্য একটু উত্তপ্ত হয়ে যায়, তখন সেই নামাজ চাশতের নামাজ হয়ে যাবে। আবার কোনো কোনো হাদিসের মধ্যে এসেছে, রাসুল (সা.) একে আউয়াবিনের নামাজ বলেছেন। সব নামাজ একই। একই বক্তব্য, একই কথা, শুধু সময়ের পার্থক্যের কারণে নামের মধ্যে পার্থক্য হয়েছে।
ওয়াক্তের কারণে দুটির ফজিলতের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। ফজিলতের বিষয়েও ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। আবার ইশরাকের নামাজ পড়লেই যথেষ্ট, আপনাকে আর চাশতের নামাজ আদায় করতে হবে না। তবে আপনি চাইলে ইশরাক ও চাশত দুই নামাজ দুই ওয়াক্তে আদায় করতে পারবেন, এটি জায়েজ রয়েছে।
★ফজীলত :-
ফজরের নামায পড়ার পর দুনিয়ার কাজকর্ম ও কথাবার্তা থেকে বিরত থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত স্বীয় নামাযের জায়গায় বা (পুরুষগণ) মসজিদে অন্যকোন জায়গায় বসে কুরআন তিলাওয়াত,
যিকির-আযকার তাসবীহ-তাহলীল ইত্যাদিতে লিপ্ত থাকবেন।
অতঃপর সূর্যোদয়ের ১২/১৩ মিনিট পর সূর্য একটু উপরে উঠলে তখন ইশরাকের সময় হয়–ঐ সময় দুই রাক‘আত ইশরাকের নামায পড়লে এক হজ্ব ও এক উমরার সমান ছাওয়াব লাভ হবে বলে হাদীসে রয়েছে।
((জামে তিরমিযী ১ : ১৩০)
এতব্যতীত আরো দুই রাক‘আতসহ মোট চার রাক‘আত পড়লে আল্লাহ তা‘আলা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার এদিনের সকল কাজের জিম্মাদার হয়ে যান বলে অপর হাদীসে উল্লেখ আছে।
(জামি তিরমিযী, ১ : ১০৮)
★নিয়ম :-
ফজরের নামাজের পর জায়নামাজ থেকে না ওঠে তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দরুদ,
জিকির-আজকার ইত্যাদিতে রত থাকা এবং ওয়াক্ত হলেই এ নামাজ পড়ে নেয়া।
অবশ্য যদি কেউ ফজরের নামাযের পর দুনিয়াবী কাজে লিপ্ত হয়ে যায় এবং সূর্য
ওঠার পর ইশরাক পড়ে,
তাও জায়িয আছে।
এতেও ইশরাক আদায় হবে।
★নামাজের নিয়ত :
ইশরাক নামাজের জন্য বিশেষ কোনো নিয়ত নেই।
আরবিতেও নিয়ত বলা আবশ্যক নয়।
শুধু এটুকু বললেই হবে,
"আমি আল্লাহর ওয়াস্তে কেবলামুখী হয়ে ইশরাকের ( চাশতের) দুই রাকাত নফল নামাজের নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবার"
ইশরাক বা চাশতের নামাজ সুরা ফাতেহার সাথে যেকোনো সূরা/কেরাত দিয়ে পড়া যায়