সাবধান মানুষের উপর যুলুম করা থেকে দূরে থাকুন

সাবধান মানুষের উপর যুলুম করা থেকে দূরে থাকুন

ময্লুমের বদ্দো‘আ আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই কবুল করেন। যদিও সে কাফির অথবা ফাসিক হয়ে থাকুক না কেন।
--------------------------------------------------
‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয (রাঃ) কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বিদায়ী নসীহত করতে গিয়ে বলেন:

وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْـمَظْلُوْمِ، فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ.

‘‘ময্লুমের বদ্দো‘আ থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, তার বদ্দো‘আ ও আল্লাহ্ তা‘আলার মাঝে কোন পর্দা বা আড় নেই। অতএব তার বদ্দো‘আ কবুল হবেই হবে’’। [বুখারী ১৪৯৬, ২৪৪৮, ৪৩৪৭; মুসলিম ১৯; আবূ দাউদ ১৫৮৪; তিরমিযী ৬২৫; আহমাদ ২০৭১]

খুযাইমাহ্ বিন্ সা’বিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

اتَّقُوْا دَعْوَةَ الْـمَظْلُوْمِ، فَإِنَّهَا تُحْمَلُ عَلَى الْغَمَامِ، يَقُوْلُ اللهُ: وَعِزَّتِيْ وَجَلَالِيْ لَأَنْصُرَنَّكَ وَلَوْ بَعْدَ حِيْنٍ.

’’তোমরা ময্লুমের বদ্দো‘আ থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, তার বদ্দো‘আ মেঘমালার উপর উঠিয়ে নেয়া হয়। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন: আমার সম্মান ও মহিমার কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবো যদিও তা কিছু দিন পরেই হোক না কেন’’। [ত্বাবারানী/কাবীর খন্ড ৪ হাদীস ৩৭১৮ সা’হীহুত্ তারগীবি ওয়াত্ তারহীব, হাদীস ২২১৮]

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

دَعْوَةُ الْـمَظْلُوْمِ مُسْتَجَابَةٌ، وَإِنْ كَانَ فَاجِرًا فَفُجُوْرُهُ عَلَى نَفْسِهِ.

‘‘ময্লুমের বদ্দো‘আ অবশ্যই গ্রহণীয়। যদি সে ফা’জির তথা গুনাহ্গার হয়ে থাকে তা হলে তার গুনাহ্ তারই ক্ষতি করবে। তবে তা তার ফরিয়াদ গ্রহণে কোন ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে না’’। [ আহমাদ ৮৭৮১ ত্বাবারানী/আওসাত্ব, হাদীস ১১৮২]

আনাস্ বিন্ মা’লিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

دَعْوَةُ الْـمَظْلُوْمِ وَإِنْ كَانَ كَافِرًا، لَيْسَ دُوْنَهَا حِجَابٌ.

‘‘ময্লুমের বদ্ দো‘আ কবুল হতে কোন বাধা নেই যদিও সে কাফির হয়ে থাকুক না কেন’’। [আহমাদ ১২৫৭১ সা’হীহুত্ তারগীবি ওয়াত্ তারহীব, হাদীস ২২৩১]

কেউ কারোর উপর কোন ধরনের যুলুম করে থাকলে তাকে আজই সে ব্যাপারে তার সাথে যে কোনভাবে মীমাংসা করে নিতে হবে। কারণ, কিয়ামতের দিন কারোর হাতে এমন কোন টাকাকড়ি থাকবে না যা দিয়ে তখন কোন মীমাংসা করা যেতে পারে। বরং তখন মীমাংসার একমাত্র মাধ্যম হবে সাওয়াব অথবা গুনাহ্। অন্যকে নিজ সাওয়াব দিয়ে দিবে নতুবা তার গুনাহ্ বহন করবে। এমনো তো হতে পারে যে, তাকে অন্যের গুনাহ্ বহন করেই জাহান্নামে যেতে হবে। আর তখনই তার মতো নি:স্ব আর কেউই থাকবে না।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لِأَحَدٍ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَيْءٍ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ، قَبْلَ أَنْ لَا يَكُوْنَ دِيْنَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ، إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلَمَتِهِ، وَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِ، وَفِيْ رِوَايَةِ التِّرْمِذِيْ: رَحِمَ اللهُ عَبْدًا كَانَتْ لِأَخِيْهِ عِنْدَهُ مَظْلَمَةٌ فِيْ عِرْضٍ أَوْ مَالٍ، فَجَاءَهُ، فَاسْتَحَلَّهُ.

‘‘কারোর কাছে অন্য কারোর কোন হরণ করা অধিকার থাকলে (তা ইয্যত, সম্পদ অথবা যে কোন সম্পর্কীয় হোক না কেন) সে যেন তার সাথে আজই সে ব্যাপারে মীমাংসা করে নেয়। সে দিনের অপেক্ষা সে যেন না করে যে দিন কোন দীনার-দিরহাম তথা টাকা-পয়সা থাকবে না। সে দিন তার কোন নেক আমল থেকে থাকলে অন্যের অধিকার হরণের পরিবর্তে তার থেকে তা ছিনিয়ে নেয়া হবে। আর যদি সে দিন তার কোন নেক আমল না থেকে থাকে তা হলে তার প্রতিপক্ষের গুনাহ্ তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে’’। [বুখারী ২৪৪৯, ৬৫৩৪; তিরমিযী ২৪১৯]

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

أَتَدْرُوْنَ مَا الْـمُفْلِسُ؟ قَالُوْا: الْـمُفْلِسُ فِيْنَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهُ وَلَا مَتَاعَ، فَقَالَ: إِنَّ الْـمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِيْ يَأْتِيْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ، وَيَأْتِيْ قَدْ شَتَمَ هَذَا، وَقَذَفَ هَذَا، وَأَكَلَ مَالَ هَذَا، وَسَفَكَ دَمَ هَذَا، وَضَرَبَ هَذَا، فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُّقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ، فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ، ثُمَّ طُرِحَ فِيْ النَّارِ.

‘‘তোমরা কি জানো নি:স্ব কে? সাহাবারা বললেন: নি:স্ব সে ব্যক্তিই যার কোন দিরহাম তথা টাকা-পয়সা ও ধন-সম্পদ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমার উম্মাতের মধ্যে সে ব্যক্তিই নি:স্ব যে কিয়ামতের দিন (আল্লাহ্ তা‘আলার সামনে) অনেকগুলো নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। অথচ (হিসেব করতে গিয়ে) দেখা যাবে যে, সে অমুককে গালি দিয়েছে। অমুককে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছে। অমুকের সম্পদ খেয়ে ফেলেছে। অমুকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং অমুককে মেরেছে। তখন একে তার কিছু সাওয়াব দেয়া হবে এবং ওকে আরো কিছু। এমনিভাবে যখন তার সকল সাওয়াব ও পুণ্য শেষ হয়ে যাবে অথচ এখনো তার দেনা বাকি তখন ওদের গুনাহ্সমূহ তার উপর চাপিয়ে দিয়ে তাকে জাহান্নামে দেয়া হবে’’। [মুসলিম ২৫৮১; তিরমিযী ২৪১৮]

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

لَتُؤَدُّنَّ الْـحُقُوْقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْـجَلْحَاءِ مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ.

‘‘তোমরা সকলেই কিয়ামতের দিন অন্যের হৃত অধিকারসমূহ সেগুলোর অধিকারীদেরকেই পৌঁছিয়ে দিবে অবশ্যই। এমনকি সে দিন শিংবিশিষ্ট ছাগল থেকেও শিংবিহীন ছাগলের জন্য ক্বিসাস্ তথা সমপ্রতিশোধ নেয়া হবে’’। [সহীহ মুসলিম ২১৮০]

কেউ মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কারোর কোন অধিকার অবৈধভাবে হরণ করলে তাকে অবশ্যই সে জন্য জাহান্নামে যেতে হবে এবং জান্নাত হবে তার উপর হারাম।

আবূ উমামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِيْنِهِ، فَقَدْ أَوْجَبَ اللهُ لَهُ النَّارَ، وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْـجَنَّةَ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيْرًا، يَا رَسُوْلَ اللهِ! قَالَ: وَإِنْ قَضِيْبًا مِنْ أَرَاكٍ.

‘‘কেউ (মিথ্যা) কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের অধিকার হরণ করলে আল্লাহ্ তা‘আলা তার জন্য জাহান্নাম বাধ্যতামূলক করেন এবং জান্নাত হারাম করে দেন। জনৈক (সাহাবী) বলেন: হে আল্লাহ্’র রাসূল! যদিও সামান্য কোন কিছু হোক না কেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যদিও ‘‘আরাক’’ গাছের ডাল সমপরিমাণ হোক না কেন। যা মিসওয়াকের গাছ’’। [সহীহ মুসলিম ২৫০]

বিশেষ করে কেউ কারোর জমিন অবৈধভাবে হরণ করলে আল্লাহ্ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার উপর খুবই অসন্তুষ্ট হবেন এবং সে পরিমাণ সাত স্তর জমিন তার গলায় পরিয়ে দিবেন।

ওয়ায়িল বিন্ ’হুজ্র (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنِ اقْتَطَعَ أَرْضًا ظَالِـمًا لَقِيَ اللهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ.

‘‘কেউ কারোর জমিন অবৈধভাবে হরণ করলে সে আল্লাহ্ তা‘আলার সাথে এমতাবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তখন তিনি তার উপর খুবই অসন্তুষ্ট’’। [সহীহ মুসলিম ২৫৬]

‘আ’য়িশা (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مِنْ ظَلَمَ قِيْدَ شِبْرٍ مِنَ الْأَرْضِ طُوِّقَهُ مِنْ سَبْعِ أَرْضِيْنَ.

‘‘যে ব্যক্তি কারোর এক বিঘত সমপরিমাণ জমিন অবৈধভাবে হরণ করলো (কিয়ামতের দিন) তার গলায় সাত জমিন পরিয়ে দেয়া হবে’’।
[বুখারী ২৪৫৩, ৩১৯৫; মুসলিম ১৬১২]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম